' কখনো হাল ছেড়ো না ' - জ্যাক মা

সর্বশেষ হালনাগাদঃ ২ এপ্রিল ২০১৮

 

প্রতিটি ব্যবসায়ের সাফল্যের পেছনে একজন উদ্যোক্তার কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের দরকার হয়। ব্যবসায়ের সাফল্যের পথে অনেক বাধা ও বিপত্তি আসতে পারে। সেই বাধা-বিপত্তিকে অতিক্রম করে সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাওয়াই হচ্ছে উদ্যোক্তার কাজ। পৃথিবীতে এমন অনেক উদ্যোক্তা রয়েছেন যারা তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ব্যবসায়ের উন্নতি ও সুনাম অর্জন করেছেন। এমনই একজন হচ্ছেন ‘জ্যাক মা’ যিনি বর্তমানে পৃথিবীর ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম।

জ্যাক মা আলিবাবা (Alibaba) গ্রুপ এর প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী চেয়ারম্যান। ১৯৬৪ সালের ১৫ই অক্টোবর তার জন্ম চীনে তিনি একজন সুপরিচিত ব্যবসায়ী ফোর্বস-র হিসাবে বর্তমানে(১০ ফেব্রুয়ারি,২০১৮) তিনি চীনের ২য় এবং বিশ্বের ২০ তম ধনী ব্যক্তি । তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩৮.৬ বিলিয়ন ডলার।  আলিবাবা ছাড়াও আরও অনেক প্রতিষ্ঠানে জ্যাক-এর ব্যাক্তিগত বিনিয়োগ রয়েছে। তিনি আবাসন, খেলাধুলা, বিনোদন খাতে বিশ্বব্যাপী তার বিনিয়োগ বিস্তৃত করেছেন। আর এখনও আলিবাবাতে(Alibaba) তার ৭.৮% শেয়ার এবং আলিপেতে (Alipay) ৫০% শেয়ার রয়েছে। জ্যাক-এর সাফল্যের অন্যতম কিছু স্বীকৃতি হল-

  • ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম(২০০৫) দ্বারা "ইয়াং গ্লোবাল লিডার" হিসেবে নির্বাচিত হন। 
  • বিজনেস উইক(২০০৯) এ “চীনের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি” হিসেবে নির্বাচিত হন।
  • ফোর্বস চীনের(২০০৯) দ্বারা "চীনে শীর্ষ ১০ জন সম্মানিত উদ্যোক্তা" হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন।
  • ফোর্বসএশিয়া(২০১০) দ্বারা এশিয়া এর “হিরোস অফ ফিল্যানথ্রপি” হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
  • ফোর্বস (২০১৬) দ্বারা “বিশ্বের ২৮ তম শক্তিশালী ব্যক্তি” হিসেবে নির্বাচিত

জ্যাকের এসকল সাফল্য খুব সহজে আসেনি,অনেক বাধা অতিক্রম করে ধৈর্য ও প্রতীক্ষার পরই এ সকল সাফল্য পেয়েছেন। 

জ্যাক জনপ্রিয় হয়েছেন আলিবাবা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। আলিবাবা গ্রুপ হচ্ছে চীনের বৃহত্তম অনলাইন বানিজ্য সংস্থা। আলিবাবা মূলত তিনটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাদের অনলাইন বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে -

১) টোবাও (Taobao)- চীনের কেনাকাটার বৃহত্তম অনলাইন মার্কেট।

২) টিমল (Tmall)- ব্র্যান্ডের পণ্য অনলাইনে বিক্রয়ের জন্য জনপ্রিয়

৩) আলিবাবা.কম (Alibaba.com)- বিশ্বের অনান্য দেশের ব্যবসায়ীদের সাথে চীনের রপ্তানীকারকদের সংযোগ করে। আলিবাবা গ্রুপ এর অসংখ্য ব্যবহারকারী আছে, যারা এর মাধ্যমে নিজেদের ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছে এবং মুনাফা অর্জন করছে ।

এছাড়া আলিবাবা গ্রুপের রয়েছে এলিপে.কম (alipay.com) যেটি পেপ্যাল এর সমতুল্য ​​একটি চায়না সংস্করণ; সিনা ওয়েইবো(Sina Weibo)-তে একটি বড় অংশ রয়েছে যেটি টুইটার-র চীনা সংস্করণ হিসেবে পরিচিত; এবং ইউকু টুডু (Youku Tudou) যা ইউটিউবের মত একটি ভিডিও স্ট্রিমিং সাইট সম্প্রতি একটি ফিল্ম ব্যবসা এবং চায়না ফুটবল ক্লাব গুয়াংঝো এভেরগ্রান্ড (Guangzhou Evergrande) এর অর্ধেক কেনার মাধ্যমে আলিবাবা সবার মাঝে আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এমনকি আর্থিক খাতে ইউ’ই বাও(Yu’e Bao) নামে এর একটি জনপ্রিয় মিউচুয়াল ফান্ড আছে

আলিবাবা তার বিভিন্ন সাইটগুলোর মাধ্যমে গত বছর অনলাইন শপিং এ ২৪৮ বিলিয়ন মূল্যের লেনদেনের সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে, যা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল(Wall Street Journal) অনুযায়ী, ইবে(eBay) এবং এ্যামাজন.কম (Amazon.com)-এর লেনদেনের চেয়েও বেশি। হংকং এর ব্রোকার সিএলএসএ(CLSA) বলেছেন যে, ৮০% চীন এর অনলাইন শপিং হয় আলিবাবা এর মাধ্যমে

জ্যাক তার স্নাতকের পর ৩০ টি চাকরির জন্য আবেদন করেন এবং প্রতিটিতেই প্রত্যাখ্যাত হন। তিনি পুলিশ অফিসার পদের জন্যও আবেদন করেছিলেন৫ জন আবেদনকারীর মধ্যে তিনিই একমাত্র ব্যাক্তি যিনি প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও জ্যাক মা বলেন, "আমি ব্যর্থ হয়েছি এটা কোন ব্যাপার নাঅন্তত আমি অন্যদের কাছে আমার ধারণা তুলে ধরতে পেরেছিআমি যদি  সফল নাও হই,অন্য কেউ সফল হবে”।

২৪ জন আবেদনকারীর মধ্যে কেএফসি(KFC) কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র জ্যাক কে প্রত্যাখ্যাত করেছিলেনএটি তাকে বিষণ্ণ ও হতাশ করে তোলেযেসব ব্যক্তি জীবনে একই রকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন বা হয়েছেন একমাত্র তারাই বুঝতে পারে যে এমন পরিস্থিতি অতিক্রম করতে কতটা শক্তি ও সাহসিকতার প্রয়োজন হয়।

জ্যাক মা বলেছেন, “আপনার জীবনে কিছু করার চেষ্টা করুন। কিছু কঠিন কাজ করুনপরিবর্তন করার চেষ্টা করুন, এতে খারাপ কিছু হবে না”

আলিবাবা শুরু করার পর জ্যাক মা সিলিকন ভ্যালিতে গিয়ে তার কোম্পানির জন্য ভেনচার ক্যাপিটাল ফান্ডিং জোগাড় চেয়েছিলেন, কিন্তু মুনাফাহীন ব্যবসায় চালানোর জন্য তাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। সেই প্রত্যাখিত আলিবাবা এখন বিশ্বের বৃহত্তম ই-কমার্স এর মধ্যে একটি

আলিবাবা প্রতিষ্ঠার পর জ্যাক প্রথম তিন বছরে কোন মুনাফা তুলতে পারছিলেন না। এমনও হয়েছে, জ্যাক রেস্টুরেন্টে তার বিল পরিশোধ করার সময়  রেস্টুরেন্টের মালিক বলত, “আপনার বিল দেওয়া হয়ে গেছে এবং আপনার জন্য একটি চিঠি রেখে গেছে”। চিঠিতে লেখা থাকতো, “মিস্টার জ্যাক মা, আলিবাবা প্ল্যাটফর্ম এ আমি আপনার গ্রাহক আমি এখানে অনেক অর্থোপার্জন করেছি এবং আমি জানি আপনি তা করেন নি, তাই আমি বিলটি পরিশোধ করলাম”। জ্যাক মা মুনাফা সম্পর্কে সতর্ক ছিলেন না। আলিবাবা-তে এটি সবচেয়ে বড় ভুল ছিল বলে জ্যাক মা পরবর্তীতে তা স্বীকার করেন।

জ্যাক আলিবাবার জন্য প্রতিষ্ঠানের বাইরে থেকে ম্যানেজারদের নিয়োগ করতে চেয়েছিলেন। কারণ তার ১৮ জন সহযোগীদের মধ্যে কেউ ম্যানেজার পদের জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন ছিলেন না এবং এক্সিকিউটিভ-দেরও তিনি বাইরে থেকে নিয়োগ দিয়েছিলেনএর থেকে তিনি কিছু শিক্ষা নিয়েছেন এবং তাত্ত্বিক জ্ঞানের থেকেও মনোভাব, অধ্যবসায় এবং আবেগের উপর জোর দিয়েছেনতিনি বলেন, “আলিবাবাতে অন্ধকারের দিনগুলো থেকে আমি যে শিক্ষা নিয়েছি তা হলো, আপনার দলকে যোগ্যতাসম্পন্ন, উদ্ভাবক ও ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে হবে”

তিনি আরও বলেন, “কখনো হাল ছেড়ো না। আজকের পরিস্থিতি হয়ত কঠিন, কালকে তার থেকেও বেশি খারাপ হতে পারে কিন্তু পরের দিন সূর্য উঠবেই” জ্যাক এর ব্যর্থতাই তাকে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছাতে সহায়তা করেছে।

এ থেকে আমরা বুঝতে পারি জ্যাক এর সাফল্যর পিছনে তার অধ্যবসায় ছিল। তিনি সবসময় ভবিষ্যতের চিন্তা করতেন, কখনো অতীতে ফিরে তাকান নি। অতীতের ভুল ও ব্যর্থতা নিয়ে কখনো হতাশ হয়ে পরেননি বরং তা থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, টাকা কখনো সুখ দিতে পারে না, যত বেশি টাকা তত বেশি দায়িত্ব। তিনি বলেছেন- “যখন আমি স্নাতকের অধিকারী হয়েছি তখন আমি মাসে ৳২০ অর্জন করেছি, যা চমৎকার ছিলযখন আপনার এক মিলিয়ন ডলার আছে, আপনি একজন ভাগ্যবান ব্যক্তিযখন আপনি ১০ মিলিয়ন ডলার পাবেন তখন আপনার সমস্যাও বাড়বে, মাথা ব্যথাও বাড়বেআর আপনার কাছে যখন এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশী অথবা শত মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ থাকবে, তখনই আপনার দায়িত্ব বাড়বে- এটি হচ্ছে আপনার উপর মানুষের বিশ্বাস, কারণ মানুষ বিশ্বাস করে যে আপনি আপনার অর্থ অন্যদের চেয়ে ভাল কাজে লাগাতে পারবেন”

তিনি আরও বলেন “জীবনটা হচ্ছে এক বক্স চকলেট এর মত, তুমি কখনোই বুঝতে পারবেন না ভবিষ্যতে কি হতে যাচ্ছে”তিনি বিশ্বাস করেন যে সাফল্য অর্জনের জন্য রাজনিতির প্রয়োজন নেই, সমর্থন করার জন্য শুধু কিছু গ্রাহক লাগবে। 

তিনি মনে করেন বিশ্ব পরিবর্তনের জন্য যুবকদের বিনিয়োগ করা উচিত এর মানে হচ্ছে যারা সফল হতে চায় তাদের সাহায্য করা জ্যাক বলেন- "অল্প বয়স্কদের সাহায্য করুন, ছোট উদ্যোক্তাদের সাহায্য করুন, ছোট ছেলেমেয়েদের বড় হতে হবে। অল্প বয়স্ক ছেলেমেয়েদের কাছে সাফল্যের বীজ লুকায়িত আছে এবং তারা যখন বড় হবে পৃথিবীটা বদলে দিবে”

প্রতিটি ব্যবসায়ের সাফল্যের পেছনে একজন উদ্যোক্তার কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের দরকার হয়। ব্যবসায়ের সাফল্যের পথে অনেক বাধা ও বিপত্তি আসতে পারে। সেই বাধা-বিপত্তিকে অতিক্রম করে সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাওয়াই হচ্ছে উদ্যোক্তার কাজ। পৃথিবীতে এমন অনেক উদ্যোক্তা রয়েছেন যারা তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ব্যবসায়ের উন্নতি ও সুনাম অর্জন করেছেন। এমনই একজন হচ্ছেন ‘জ্যাক মা’ যিনি বর্তমানে পৃথিবীর ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম।

জ্যাক মা আলিবাবা (Alibaba) গ্রুপ এর প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী চেয়ারম্যান। ১৯৬৪ সালের ১৫ই অক্টোবর তার জন্ম চীনে তিনি একজন সুপরিচিত ব্যবসায়ী ফোর্বস-র হিসাবে বর্তমানে(১০ ফেব্রুয়ারি,২০১৮) তিনি চীনের ২য় এবং বিশ্বের ২০ তম ধনী ব্যক্তি । তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩৮.৬ বিলিয়ন ডলার।  আলিবাবা ছাড়াও আরও অনেক প্রতিষ্ঠানে জ্যাক-এর ব্যাক্তিগত বিনিয়োগ রয়েছে। তিনি আবাসন, খেলাধুলা, বিনোদন খাতে বিশ্বব্যাপী তার বিনিয়োগ বিস্তৃত করেছেন। আর এখনও আলিবাবাতে(Alibaba) তার ৭.৮% শেয়ার এবং আলিপেতে (Alipay) ৫০% শেয়ার রয়েছে। জ্যাক-এর সাফল্যের অন্যতম কিছু স্বীকৃতি হল-

  • ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম(২০০৫) দ্বারা "ইয়াং গ্লোবাল লিডার" হিসেবে নির্বাচিত হন। 
  • বিজনেস উইক(২০০৯) এ “চীনের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি” হিসেবে নির্বাচিত হন।
  • ফোর্বস চীনের(২০০৯) দ্বারা "চীনে শীর্ষ ১০ জন সম্মানিত উদ্যোক্তা" হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন।
  • ফোর্বসএশিয়া(২০১০) দ্বারা এশিয়া এর “হিরোস অফ ফিল্যানথ্রপি” হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
  • ফোর্বস (২০১৬) দ্বারা “বিশ্বের ২৮ তম শক্তিশালী ব্যক্তি” হিসেবে নির্বাচিত

জ্যাকের এসকল সাফল্য খুব সহজে আসেনি,অনেক বাধা অতিক্রম করে ধৈর্য ও প্রতীক্ষার পরই এ সকল সাফল্য পেয়েছেন। 

জ্যাক জনপ্রিয় হয়েছেন আলিবাবা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। আলিবাবা গ্রুপ হচ্ছে চীনের বৃহত্তম অনলাইন বানিজ্য সংস্থা। আলিবাবা মূলত তিনটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাদের অনলাইন বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে -

১) টোবাও (Taobao)- চীনের কেনাকাটার বৃহত্তম অনলাইন মার্কেট।

২) টিমল (Tmall)- ব্র্যান্ডের পণ্য অনলাইনে বিক্রয়ের জন্য জনপ্রিয়

৩) আলিবাবা.কম (Alibaba.com)- বিশ্বের অনান্য দেশের ব্যবসায়ীদের সাথে চীনের রপ্তানীকারকদের সংযোগ করে। আলিবাবা গ্রুপ এর অসংখ্য ব্যবহারকারী আছে, যারা এর মাধ্যমে নিজেদের ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছে এবং মুনাফা অর্জন করছে ।

এছাড়া আলিবাবা গ্রুপের রয়েছে এলিপে.কম (alipay.com) যেটি পেপ্যাল এর সমতুল্য ​​একটি চায়না সংস্করণ; সিনা ওয়েইবো(Sina Weibo)-তে একটি বড় অংশ রয়েছে যেটি টুইটার-র চীনা সংস্করণ হিসেবে পরিচিত; এবং ইউকু টুডু (Youku Tudou) যা ইউটিউবের মত একটি ভিডিও স্ট্রিমিং সাইট সম্প্রতি একটি ফিল্ম ব্যবসা এবং চায়না ফুটবল ক্লাব গুয়াংঝো এভেরগ্রান্ড (Guangzhou Evergrande) এর অর্ধেক কেনার মাধ্যমে আলিবাবা সবার মাঝে আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এমনকি আর্থিক খাতে ইউ’ই বাও(Yu’e Bao) নামে এর একটি জনপ্রিয় মিউচুয়াল ফান্ড আছে

আলিবাবা তার বিভিন্ন সাইটগুলোর মাধ্যমে গত বছর অনলাইন শপিং এ ২৪৮ বিলিয়ন মূল্যের লেনদেনের সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে, যা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল(Wall Street Journal) অনুযায়ী, ইবে(eBay) এবং এ্যামাজন.কম (Amazon.com)-এর লেনদেনের চেয়েও বেশি। হংকং এর ব্রোকার সিএলএসএ(CLSA) বলেছেন যে, ৮০% চীন এর অনলাইন শপিং হয় আলিবাবা এর মাধ্যমে

জ্যাক তার স্নাতকের পর ৩০ টি চাকরির জন্য আবেদন করেন এবং প্রতিটিতেই প্রত্যাখ্যাত হন। তিনি পুলিশ অফিসার পদের জন্যও আবেদন করেছিলেন৫ জন আবেদনকারীর মধ্যে তিনিই একমাত্র ব্যাক্তি যিনি প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও জ্যাক মা বলেন, "আমি ব্যর্থ হয়েছি এটা কোন ব্যাপার নাঅন্তত আমি অন্যদের কাছে আমার ধারণা তুলে ধরতে পেরেছিআমি যদি  সফল নাও হই,অন্য কেউ সফল হবে”।

২৪ জন আবেদনকারীর মধ্যে কেএফসি(KFC) কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র জ্যাক কে প্রত্যাখ্যাত করেছিলেনএটি তাকে বিষণ্ণ ও হতাশ করে তোলেযেসব ব্যক্তি জীবনে একই রকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন বা হয়েছেন একমাত্র তারাই বুঝতে পারে যে এমন পরিস্থিতি অতিক্রম করতে কতটা শক্তি ও সাহসিকতার প্রয়োজন হয়।

জ্যাক মা বলেছেন, “আপনার জীবনে কিছু করার চেষ্টা করুন। কিছু কঠিন কাজ করুনপরিবর্তন করার চেষ্টা করুন, এতে খারাপ কিছু হবে না”

আলিবাবা শুরু করার পর জ্যাক মা সিলিকন ভ্যালিতে গিয়ে তার কোম্পানির জন্য ভেনচার ক্যাপিটাল ফান্ডিং জোগাড় চেয়েছিলেন, কিন্তু মুনাফাহীন ব্যবসায় চালানোর জন্য তাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। সেই প্রত্যাখিত আলিবাবা এখন বিশ্বের বৃহত্তম ই-কমার্স এর মধ্যে একটি

আলিবাবা প্রতিষ্ঠার পর জ্যাক প্রথম তিন বছরে কোন মুনাফা তুলতে পারছিলেন না। এমনও হয়েছে, জ্যাক রেস্টুরেন্টে তার বিল পরিশোধ করার সময়  রেস্টুরেন্টের মালিক বলত, “আপনার বিল দেওয়া হয়ে গেছে এবং আপনার জন্য একটি চিঠি রেখে গেছে”। চিঠিতে লেখা থাকতো, “মিস্টার জ্যাক মা, আলিবাবা প্ল্যাটফর্ম এ আমি আপনার গ্রাহক আমি এখানে অনেক অর্থোপার্জন করেছি এবং আমি জানি আপনি তা করেন নি, তাই আমি বিলটি পরিশোধ করলাম”। জ্যাক মা মুনাফা সম্পর্কে সতর্ক ছিলেন না। আলিবাবা-তে এটি সবচেয়ে বড় ভুল ছিল বলে জ্যাক মা পরবর্তীতে তা স্বীকার করেন।

জ্যাক আলিবাবার জন্য প্রতিষ্ঠানের বাইরে থেকে ম্যানেজারদের নিয়োগ করতে চেয়েছিলেন। কারণ তার ১৮ জন সহযোগীদের মধ্যে কেউ ম্যানেজার পদের জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন ছিলেন না এবং এক্সিকিউটিভ-দেরও তিনি বাইরে থেকে নিয়োগ দিয়েছিলেনএর থেকে তিনি কিছু শিক্ষা নিয়েছেন এবং তাত্ত্বিক জ্ঞানের থেকেও মনোভাব, অধ্যবসায় এবং আবেগের উপর জোর দিয়েছেনতিনি বলেন, “আলিবাবাতে অন্ধকারের দিনগুলো থেকে আমি যে শিক্ষা নিয়েছি তা হলো, আপনার দলকে যোগ্যতাসম্পন্ন, উদ্ভাবক ও ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে হবে”

তিনি আরও বলেন, “কখনো হাল ছেড়ো না। আজকের পরিস্থিতি হয়ত কঠিন, কালকে তার থেকেও বেশি খারাপ হতে পারে কিন্তু পরের দিন সূর্য উঠবেই” জ্যাক এর ব্যর্থতাই তাকে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছাতে সহায়তা করেছে।

এ থেকে আমরা বুঝতে পারি জ্যাক এর সাফল্যর পিছনে তার অধ্যবসায় ছিল। তিনি সবসময় ভবিষ্যতের চিন্তা করতেন, কখনো অতীতে ফিরে তাকান নি। অতীতের ভুল ও ব্যর্থতা নিয়ে কখনো হতাশ হয়ে পরেননি বরং তা থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, টাকা কখনো সুখ দিতে পারে না, যত বেশি টাকা তত বেশি দায়িত্ব। তিনি বলেছেন- “যখন আমি স্নাতকের অধিকারী হয়েছি তখন আমি মাসে ৳২০ অর্জন করেছি, যা চমৎকার ছিলযখন আপনার এক মিলিয়ন ডলার আছে, আপনি একজন ভাগ্যবান ব্যক্তিযখন আপনি ১০ মিলিয়ন ডলার পাবেন তখন আপনার সমস্যাও বাড়বে, মাথা ব্যথাও বাড়বেআর আপনার কাছে যখন এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশী অথবা শত মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ থাকবে, তখনই আপনার দায়িত্ব বাড়বে- এটি হচ্ছে আপনার উপর মানুষের বিশ্বাস, কারণ মানুষ বিশ্বাস করে যে আপনি আপনার অর্থ অন্যদের চেয়ে ভাল কাজে লাগাতে পারবেন”

তিনি আরও বলেন “জীবনটা হচ্ছে এক বক্স চকলেট এর মত, তুমি কখনোই বুঝতে পারবেন না ভবিষ্যতে কি হতে যাচ্ছে”তিনি বিশ্বাস করেন যে সাফল্য অর্জনের জন্য রাজনিতির প্রয়োজন নেই, সমর্থন করার জন্য শুধু কিছু গ্রাহক লাগবে। 

তিনি মনে করেন বিশ্ব পরিবর্তনের জন্য যুবকদের বিনিয়োগ করা উচিত এর মানে হচ্ছে যারা সফল হতে চায় তাদের সাহায্য করা জ্যাক বলেন- "অল্প বয়স্কদের সাহায্য করুন, ছোট উদ্যোক্তাদের সাহায্য করুন, ছোট ছেলেমেয়েদের বড় হতে হবে। অল্প বয়স্ক ছেলেমেয়েদের কাছে সাফল্যের বীজ লুকায়িত আছে এবং তারা যখন বড় হবে পৃথিবীটা বদলে দিবে”