বাজারজাতকরণ(মার্কেটিং) কী ?

সর্বশেষ হালনাগাদঃ ৩১ অগাস্ট ২০১৮

 

বাজারজাতকরণ একটি সামাজিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া যা ক্রেতার প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্যদ্রব্য সেবা সরবরাহ করে বাজার উন্নয়ন সম্প্রসারন ঘটায় এবং পণ্য সেবার মানোন্নয়ন ইত্যাদি কাজ সম্পন্ন করে এছাড়াও উৎপাদনকারীদের নিকট হতে পন্য  সেবা সামগ্রী ভোক্তার নিকট পৌঁছানো জন্য ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, বিজ্ঞাপন, গুদামজাতকরণ, মোড়কীকরণ ইত্যাদি কাজ  করে থাকে ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জনের জন্য

বাজারজাতকরণ কি?

মানুষ পরিবর্তনশীল, তাদের চিন্তা, চেতনা, চাহিদা সব কিছু সময়ের সাথে সাথে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হতে থাকে।আর এই পরিবর্তনশীল যুগে ক্রেতাদের চাহিদা , প্রয়োজন কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পরিবর্তন হয়ে যায়, তাই পরিবর্তনশীল বাজারে আপনি একজন  সফল ব্যবসায়ী হতে হলে আগে ক্রেতাদের চাহিদা বুঝতে হবে এরপর সেই অনুযায়ি তা সরবরাহ করতে হবে। আর ক্রেতাকে বুঝতে হলে আপনাকে বাজারজাতকরণের প্রয়োজন বুঝতে হবে।   

তাহলে এবার বাজারজাতকরণ কি উপস্থাপন করা যাক, আসলে বাজারজাতকরণ কথাটা শুনতে বাজারকে ঘিরে মনে হলেও, এর কাজের ব্যাপ্তি বিশালপু্রানো দিনের মত এখন বাজারজাতকরণ বলতে শুধু ক্রয়-বিক্রয়কে বুঝায় না; নতুন ধারনা হলো ক্রেতাকে সন্তুষ্ট করা এবং একটি সুস্পষ্ট ধারনা নেয়া যে ক্রেতারা আপনার পণ্য বা সেবা কেন নিবে, প্রতিযোগিদের তুলনায় কি আলাদা গুনাবলি বা বৈশিষ্ট্য আছে যদি আপনি এই ধারণাটা না থাকে তো, আপনার বাজারজাতকরণ হচ্ছে না। আপনাকে সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করে আপনার পণ্যের সঠিক ধারনা ক্রেতা এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে পৌছে দিতে হবে।

বাজারজাতকরণ বলতে কী বুঝায়?

উৎপাদন থেকে শুরু করে আসল ভোক্তার নিকট পৌছনো পর্যন্ত যাবতীয় কার্যাবলীকেই বাজারজাতকরণ বলা হয়।

এক কথায় বাজারজাতকরণকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হলেও , বাজারজাতকরণের কাজ শুধু ভোক্তার নিকট পৌছানো পর্যন্তই না, এর পরবর্তী কাজগুলোও বাজারজাতকরণের মধ্যেই পড়ে যেমন; পণ্য সংস্থাপন, মেরামত, গ্রাহক প্রতিক্রিয়া জানা ইত্যাদি।

যদি একটু অন্যভাবে বলি বাজারজাতকরণ কি তাহলে বলা যায়,একটি সামাজিক এবং ব্যবস্থাপকীয় প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজের মুনাফার আশায় ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ি পণ্য বা সেবা  সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট মূল্যে ভোক্তার নিকট পণ্য সরবরাহ করাকে বাজারজাতকরণ বলা হয়।

আসলে বাজারজাতকরণ, যেকোন  ব্যবসায়ের চেয়ে বেশি কাজ সম্পাদন করতে হয়, ক্রেতাদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে হয়। বাজারজাতকরণের দুইটি সাধারন উদেশ্য রয়েছে, যেমন;

  • নতুন ক্রেতাদের আকর্ষণ করা এবং তাদেরকে তাদের চাহিদা অনুযায়ি সেরা পণ্য বা সেবার নিশ্চয়তা প্রদান করা
  • বর্তমান ক্রেতাকে সন্তুষ্ট করার মাধ্যমে ধরে রাখা এবং ভবিষ্যত ক্রেতা তৈরি করা।

এছাড়াও আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্দ্যেশ রয়েছে, যেমন;

  • মুনাফা তৈরী করা।
  • প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা সম্পর্কে ভোক্তা বা ক্রেতাদের অবহিত করা।
  • নির্দিষ্ট পণ্য বা সেবা প্রতি ভোক্তাদের চাহিদা তৈরী করা।
  • বাজারে একই রকম পণ্যের প্রতিযোগিতা হয়, প্রতিযোগিতাময় বাজারে টিকে থাকা হল বাজারজাতকরণের অন্যতম একটি উদ্দ্যেশ।
  • ক্রেতা পণ্যের প্রতি  তার প্রচলিত ধারনা পরিবর্তন করে অনুকূল মনোভাব পোষন করাও বাজারজাতকরণের উদ্দ্যেশ।

বাজারজাতকরণ কেন প্রয়োজন?

বাজারজাতকরণ আমাদের সামগ্রিক প্রয়োজন এবং চাহিদা পূরনের জন্য অপরিহার্য। উৎপাদিত পণ্য সম্পর্কে ভোক্তাদের উৎসাহিত করা এবং তাদের হাতে পণ্য পৌঁছে দিয়ে উৎপাদক এবং ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করা, পণ্য বন্টন, উন্নয়ন , বাজার গবেষনায় বাজারজাতকরণে বিকল্প নেই।

১। বাজারজাতকরণ হস্তান্তর, বিনিময় এবং পণ্য নড়াচড়ায় সাহায্য করেঃ বাজারজাতকরণ ক্রেতাদের কাছে পণ্য বা সেবা পাঠায় বিভিন্ন ম্যধম্যে যেমন; পাইকারী ব্যবসায়, খুচরা ব্যবসায় ইত্যাদি। আসল কথা হল ভোক্তার নিকট পণ্য পাঠনোর জন্য বাজারজাতকরণ প্রয়োজন

২। বাজারজাতকরণ জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করেঃ বাজারজাতকরণ আপনাকে একটি উন্নত জীবন পেতে সহায়তা করবে। সেবা বা পণ্যকে স্বল্পমূল্যে ক্রেতাদের কাছে সহজলভ্য  করে, জীবনযাত্রার মান ক্রমাগত বাড়িয়ে চলছে। আধুনিক যুগে, উন্নত পদ্ধতি ব্যবহার করে অধিক উৎপাদনের ফলে নিম্নশ্রেনীর মানুষেরা কম মুল্যে তাদের চাহিদা পুরন করতে পারছে।

৩।কর্মসংস্থানঃ বাজারজাতকরণ একটি জটিল প্রক্রিয়া, এ প্রক্রিয়া সম্পাদনের জন্য অনেক লোকের প্রয়োজন।বাজারজাতকরণের মূল কাজ হল, ক্রয়, বিক্রয়, অর্থায়ন , পরিবহন, গুদামজাতকরণ, ঝুকি নেয়া, মান উন্নয়ন করা, এ সকল কাজের জন্য বিভিন্ন ধরনের লোকের প্রয়োজন হয়।জনসংখ্যার ৪০% সরাসরি বা অন্যভাবে বাজারজাতকরণের উপর নিরভরশীল। উৎপাদনে এবং কোম্পানিতে বিশাল কাজ সম্পাদন করতে হয় আর এই বিশাল কাজগুলোই কর্মচারীদের জন্য সুযোগ তৈরি করে দেয়।

৪। বাজারজাতকরণ রাজস্ব এবং আয়ের উৎসঃ বাজারজাতকরণকে রাজস্ব এবং আয়ের উৎস বলা হয়, কেননা এটার মাধ্যমে ব্যবসায়ে মুনাফা অর্জন হয়।  বাজারজাতকরণ বিভিন্ন রকম সুবিধা দিয়ে থাকে মুনাফা অর্জনের জন্য , যেমন; পণ্য বিক্রয়। এই আয় বা মুনাফাগুলো পুনরায় বিনিয়োগ করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আবারো নতুন মুনাফা তৈরি হয়।

৫। নতুন ধারনার উৎস হিসেবে কাজ করেঃ প্রতিনিয়ত ক্রেতার চাহিদা পরিবর্তন সেই সাথে পরিবর্তন হচ্ছে বাজার, আর, এই বাজারে প্রতিযোগিতায়, যে যত তাড়াতাড়ি নিজেদের পদ্ধতির পরিবর্তন আনবে , সে তত  তাড়াতাড়ি ক্রেতাদের চাহিদার সাথে খাপ খাওয়াতে পারবে আর এই পরিবর্তন তখনই সম্ভব যখন নতুন ধারনা পাওয়া যাবে।

বাজারজাতকরণ অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করেঃ বাজারজাতকরণের মাধ্যমে বলিষ্ঠ এবং স্থায়ী অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা সম্ভব , কেননা এটা বিনিয়োগের জন্য অনুপ্রেরনা যোগায়, বেকার সমস্যার সমাধান করে সেই সাথে ব্যবসায়ের মালিককে মুনাফা অর্জনে সহয়তা করে, আর এসকল কার্যক্রমের ফলেই নিজের ব্যক্তিগত এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন হয়।

বাজারজাতকরণ এবং বিজ্ঞাপনের মধ্যে পার্থক্যঃ

অনেকেই মনে করেন বাজারজাতকরণ মানে হল পন্যের বা সেবার বিজ্ঞাপন করা। তাই, বাজারজাতকরণের পূর্বে আপনাকে বুঝতে হবে, এই দুটির মধ্যে পার্থক্যগুলো;

বিজ্ঞাপন হল বাজারজাতকরণের একটি অংশ মাত্রকিন্তু বাজারজাতকরণের পরিধি ব্যাপক, যেমন;

  • ক্রয়
  • বিক্রয়
  • বিজ্ঞাপন
  • পরিবহন
  • গুদামজাতকরণ
  • ঝুঁকি গ্রহণ
  • পর্যায়িতকরণ
  • প্রমিতকরণ
  • মোড়কীকরণ
  • বাজার গবেষণা
  • মূল্য নির্ধারণ করা
  • বিপণন প্রসার ইত্যাদি।