আপনার পণ্য উৎপাদন বা সেবা দেয়ার খরচ

সর্বশেষ হালনাগাদঃ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

 

আপনি আপনার ব্যবসার শুরু এবং চালানোর জন্য কী কী খরচ করেছেন তা চিহ্নিত করার পর আপনি আপনার পণ্য উত্পাদন বা আপনার সেবা প্রদানের খরচ বের করতে পারেন এই বিভাগটি আপনাকে আপনার পণ্য মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া, আপনার সেবা খরচ বা খুচরো বিক্রয়ের জন্য খরচের প্রক্রিয়া আলোচনা করবে।

১। আপনার পণ্য খরচঃ

আপনার পণ্যের খরচ হল উত্পাদন খরচ (কাঁচামাল এবং প্যাকেজিং ও শ্রম) এবং ব্যবসায়ের ওভারহেডগুলোর যোগফল।

ওভারহেড যেভাবে গণনা করবেনঃ

  • আপনি বছরে কতগুলো পণ্য বিক্রি করবেন তা অনুমান করুন। উদাহরণ- ৩,০০০ ইউনিট।
  • আপনার মোট স্থায়ী খরচ - ওভারহেডস যোগ উত্তোলন উদাহরণ, ওভারহেডস ৳৬,০০০ এবং উত্তোলন ৳ ১২,০০০। মোট মোট খরচ হল ৳১৮,০০০
  • প্রতিটি ইউনিটে কতটুকু স্থায়ী খরচ বন্টন করা হবে তা নির্ণয় করার জন্য মোট স্থায়ী খরচকে (৳১৮,০০০)  আপনার  প্রত্যাশিত বিক্রয় (৳৩,০০০) দ্বারা ভাগ করে নিন।
    ৳৬,০০০+ ৳১২,০০০ 

        ৳৩,০০০  

= ৳৬
 

প্রতি ইউনিটের মোট উৎপাদন খরচ বের করার জন্য উৎপাদন খরচ যোগ করুন।
এই উদাহরণে, উৎপাদন খরচ হল ৳৩

৳৬ + ৳৩ = ৳৯
এখানে পূর্ণ গণনা আছেঃ

মোট ওভারহেড + উত্তোলন     =    ৬,০০০ + ১২,০০০
 মোট ইউনিট সংখ্যা                          ৳৩,০০০
+ উৎপাদন খরচ (ঐ পণ্যের জন্য)              +

=> পণ্য খরচ = ৳৯

 

২। আপনার সেবার মূল্য নির্ধারণঃ

একটি সেবার মূল্য নির্ধারণে পণ্যের মূল্য নির্ধারণের মত একই নীতি কাজ করে, কিন্তু এই ক্ষেত্রে  সেবা প্রদানের জন্য ঘণ্টা হারে হিসাব বিবেচনা করতে হবে
আপনাকে কীভাবে ঘণ্টা হারে হিসাব নির্ণয় করতে হবে তা নিম্নে দেখান হলঃ

বছরে যত সপ্তাহের জন্য কাজ করবেন (বাস্তবসম্মত হতে হবে)

৪৬

 

প্রতি সপ্তাহে কাজ করার উত্পাদন (চার্জযুক্ত) ঘন্টা

২৪

মোট স্থায়ী খরচ (ওভারহেড যোগ উত্তোলন)

৳২১৬,০০০

 

বার্ষিক মোট চার্জকৃত ঘন্টা হিসাব করুন

৪৬ X ২৪ = ১,১০৪

 

প্রতি ঘন্টায় ধার্যকৃত চার্জ

২১৬,০০০/১,১০৪ = ৳১৯৫.65

 

 

মনে রাখবেন, ব্যবসা চালানোর জন্য কিছু সময় বরাদ্দ রাখতে হবে, যেমন- প্রশাসন চালানো, বিপণন, হিসাবরক্ষণ এবং পরিকল্পনা।
এই হিসাবটি আপনাকে আপনার সেবা প্রদানের জন্য প্রতি ঘন্টায় কত খরচ করতে হবে তা নির্ণয় করতে সহায়তা করবে। কোন সামগ্রী ব্যবহার বা উৎপন্ন করার জন্য আপনাকে খরচ যোগ করতে হবে
উদাহরণস্বরূপ, একজন প্রশিক্ষক প্রতিনিধিদের জন্য একটি কর্মপদ্ধতি বা প্রশিক্ষণ নোট তৈরি করতে পারে, অথবা প্লাম্বার প্রতিস্থাপন জিনিস প্রদান করতে পারে, যেমন-একটি ওয়াশার বা পাইপ।

৩। খুচরা জন্য খরচঃ

যদি আপনার ব্যবসা পুনরায় বিক্রির জন্য জিনিসপত্র কেনার সাথে জড়িত থাকে তবে আপনাকে আপনার ইউনিট কেনার জন্য দাম যোগ তা মত ব্যয় নির্ধারণ করতে হবে যাতে আপনি সমস্ত খরচ কমাতে এবং মুনাফা অর্জন করতে পারেন। এটি আপনার খুচরো মার্ক-আপ (mark-up)

এটি যেভাবে কাজ করেঃ

এই উদাহরণে, ওভারহেডস ৳৯,৬০০, উত্তোলন ৳ ১২,০০০ এবং উতপাদন খরচ হয় ৳ ৪৫,০০০।
মোট ওভারহেড + উত্তোলন  
X ১০০ = ৳ ৯,৬০০ + ১২,০০০   X১০০
            উৎপাদন খরচ                               ৳ ৪৫,০০০

   => খুচরো মার্ক আপ%                      = ৪৮%
এর মানে আপনি আপনার খরচ কমাতে এবং মুনাফা অর্জন করতে আপনাকে পণ্য কেনার পরিমাণ  ৪৮% বৃদ্ধি করতে হবে। যদি আপনি পন্যটির জন্য ৳১ পেতেন, তাহলে আপনি এটি ৳১.৪৮ টাকায় বিক্রি করবেন

 

৪। ব্রেক ইভেন পয়েন্ট (break even point):

ব্রেক ইভেন পয়েন্ট (break even point) হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট পরিমান বিক্রয় যেখানে আপনার খরচ এবং আপনার আয় সমান হয়। ব্রেক ইভেন পয়েন্টের (break even point) বেশি বিক্রয় করলে তা আপনার জন্য অর্জিত মুনাফা হবে। আপনার গণনার মধ্যে নিশ্চিত হন যে, আপনি যে ইউনিট বিক্রি করবেন তার জন্য আপনার পরিসংখ্যান, অথবা যে উত্পাদন ঘন্টায় কাজ করবেন তার পরিমাণ যেন বাস্তববাদী হয়
ব্রেক ইভেন পয়েন্ট (break even point) আপনার বিক্রয় এবং বিক্রয়ের ইউনিট সংখ্যার মধ্যে সম্পর্ক এবং পাশাপাশি ব্যবসায়ের উপর দামের প্রভাব দেখতে সাহায্য করবে।

ব্রেক ইভেন পয়েন্ট গণনা (break even point):

আপনার ব্রেক ইভেন পয়েন্ট (break even point) গণনার জন্য আপনার জানা প্রয়োজনঃ

  • বছরের জন্য মোট নির্দিষ্ট খরচ / ওভারহেডগুলো
  • ইউনিট প্রতি সরাসরি খরচ, এবং
  • প্রত্যাশিত বিক্রয় মূল্য

উদাহরণ স্বরূপঃ

মোট নির্দিষ্ট খরচ - ৳১০,০০০
ইউনিট প্রতি সরাসরি খরচ – ৳২
ইউনিট বিক্রি মূল্য – ৳৬

প্রতি ইউনিট বিক্রয় মূল্য (৳৬) থেকে প্রতি ইউনিট উৎপাদন খরচ (৳২) বিয়োগ করে প্রতি ইউনিট মোট মুনাফা করে বের করা যাবে।

  • প্রতি ইউনিট বিক্রয় মূল্য- প্রতি ইউনিট উৎপাদন খরচ ৳৬ – ৳২ = ৳৪

এখন প্রাপ্ত সংখ্যা (৳৪) দ্বারা মোট স্থায়ী খরচ (৳১০,০০০) ভাগ করুন। এতে আপনি ব্রেক ইভেন (break even) বিক্রির জন্য ইউনিট সংখ্যা পাবেন।

  • স্থায়ী খরচ = ৳১০,০০০   

প্রতি ইউনিট মুনাফা= ৳৪


ব্রেক ইভেন পয়েন্ট (break even point) = ২,৫০০ ইউনিট

আপনার ব্রেক ইভেন পয়েন্ট (break even point) গণনা করাঃ

আমাদের উদাহরণে, ব্যবসার জন্য ২,৫০০ টি ইউনিট ব্রেক ইভেন পয়েন্ট (break even point) এ বিক্রি করতে হবেযদি তারা ২,৫০০ টিরও বেশি ইউনিট উৎপাদন করে, তবে তারা মুনাফা লাভ করবে; ২,৫০০ ইউনিট এর কম বিক্রি করলে তাদের ব্যবসায়ের ক্ষতি হবেমুনাফা লাভ করতে বিক্রয় পূর্বাভাস  ২,৫০০ ইউনিট এর বেশী হতে হবে।

ব্রেক ইভেন পয়েন্ট (break even point) এবং মূল্যনির্ধারণ

এই উদাহরণ ব্যবহার করে, আসুন দেখি ব্রেক ইভেন এ বিক্রি করার জন্য কিভাবে বিভিন্ন দাম আপনার পণ্যের বিক্রয়ের পরিমাণকে প্রভাবিত করে।
যদি বিক্রিত মূল্য ৳৬ এর পরিবর্তে ৳৮ হয় তাহলে প্রতি ইউনিটে অর্জিত মুনাফা হবে ৬ টাকা এবং ব্রেক ইভেন পয়েন্ট (break even point) ১,৬৬৭ ইউনিট

৳১০,০০০ = ১,৬৬৭ ইউনিট

  ৳ 6

এই উদাহরণ থেকে আপনি মূল্য এবং বিক্রয় কীভাবে একে অপরের উপর নির্ভরশীল তা বুঝতে পারবেনঃ

  • ৳৬ এর বিক্রিত মূল্য মানে ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট (break even point) ২,৫০০ ইউনিট
  • ৳৮ এর বিক্রিত মূল্য মানে ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট (break even point) 1,667 টি ইউনিট
  • বিক্রিত মূল্যের মূল্য ৳৪ মানে ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট (break even point) ৫,০০০ ইউনিট

আপনি যদি আপনার বিক্রিত মূল্য সামঞ্জস্য করতে চান, তবে আগে নিশ্চিত হন যে আপনাকে ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট (break even point) এ কততুকু বিক্রি করার প্রয়োজন