নেতৃত্ব এবং ভালো নেতার গুনাবলী

সর্বশেষ হালনাগাদঃ ৭ জানুয়ারি ২০১৮

নেতৃত্ব

নেতৃত্ব! এই শব্দটা শুনতেই সর্বপ্রথম আমাদের মাথায় কি আসে? নিশ্চয়ই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড? কিন্তু এই শব্দটা শুধুমাত্র রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথেই জড়িত না। আপনি যখন কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে যাবেন সেখানে একজন লিডার বা বস আপনাকে নেতৃত্ব দিবে। আর প্রতিষ্ঠানটি যদি আপনার নিজের হয়, তাহলে আপনার কর্মীদেরকে নেতৃত্ব দেয়ার দায়িত্ব আপনার। একটি ছোট উদাহরণ দেই। আমাদের স্কুলে বা কলেজে একজন ক্লাস ক্যাপ্টেন ছিল, তাই না? তারা কি করত? তারা শিক্ষকদের সাথে সম্পৃক্ত ক্লাসের সকল কাজে আমাদেরকে সহায়তা করত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও অনেকটা একই রকম। কিন্তু এখানে আপনার শিক্ষক থাকবে না, যেটা থাকবে সেটা হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য লিডার আপনাকে সবরকমের সহায়তা করবে। এখন কথা হচ্ছে লিডার এবং বস কি একই কথা? না! লিডার আর বস এক না। বস আপনাকে কাজের অর্ডার দিবে আর কিছু নির্দেশনা দিবে। কিন্তু একজন লিডার আপনার মধ্যে কাজ করার আগ্রহ যোগাবে, আপনাকে দিক নির্দেশনা দিবে এবং কাজটা যতক্ষণ না পর্যন্ত শেষ হচ্ছে যতটুকু সম্ভব আপনাকে সহায়তা করবে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন নেতৃত্ব বিষয়টা একজন ভালো লিডার-এর সাথেই মানায়

নেতৃত্ব মানে কি? নেতৃত্ব মানে হচ্ছে আপনার কর্মী অথবা অন্য প্রতিষ্ঠানের সদস্যদেরকে কাজের জন্য প্রভাবিত করা ও সঠিক নির্দেশনা দেয়ার ক্ষমতা, যাতে তারা কাজকে বোঝা না ভেবে আনন্দ সহকারে করে। সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া, স্পষ্ট ভিশন তৈরি করা, নির্দিষ্ট লক্ষ্য প্রতিষ্ঠা করা, অনুসরণকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা নেতৃত্বের কাজ। নেতৃত্ব চর্চা আমাদের কেন দরকার? মনে করুন আপনি কোন বড় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন আপনার অধীনে যারা কাজ করে কিংবা আপনি যাদের জন্য কাজ করছেন তাদের প্রতি আপনার ভূমিকা কি হবে?  কিভাবে তাদেরকে কাজের জন্য উদ্বুধ করবেন? শুধু কর্পোরেট জীবনে নয়, ব্যক্তিজীবনেও নেতৃত্ব চর্চার প্রয়োজন আছেকারন শুধুমাত্র নেতৃত্ব চর্চাই পারে আপনাকে সকলের সামনে অন্যতমভাবে তুলে ধরতে। একজন লিডার যদি ভালো না হয়, মানে আপনি যেই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন সেখানে যদি শুধু কাজের অর্ডার দেয় কিন্তু কাজে সহায়তা না করে ডেডলাইন অনুযায়ী একদম পারফেক্ট কাজ চায় আর চেঁচামিচি করে তখন কি আপনার ভালো লাগবে? একদমই না। তাই একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান চালানোর জন্য একজন ভালো লিডার বা নেতা হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

একজন ভালো লিডার বা নেতার কিছু গুণাবলী ও দক্ষতা থাকে যেগুলো ছাড়া ভালো নেতৃত্ব প্রদান সম্ভব নয়। সেগুলো নিচে দেয়া হল- 

আত্মসচেতনতা ও ইচ্ছা

আপনিও একজন ভালো নেতা হতে পারেন, এই আত্মবিশ্বাস ও সচেতনতা আপনার মধ্যে থাকতে হবে। মনে রাখবেন, ইচ্ছা-ই সকল কাজের মূল।

ব্যবসায়িক দক্ষতা

এটি হচ্ছে সর্বপ্রথম জ্ঞান। ব্যবসায়িক জ্ঞান না থাকলে কার্যকর নেতৃত্ব প্রদান সম্ভব হবে না।

সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ক্ষমতা

একটি প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখতে হলে কর্মী, গ্রাহক ও অন্যদের সাথে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে হয়। তার জন্য দরকার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করার ক্ষমতা।  

যোগাযোগ দক্ষতা

যোগাযোগ দক্ষতা অনেক বড় একটি ইস্যু। সবার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে এটির প্রয়োজনীয়তা অনেক।

প্রতিনিধিত্ব

আপনার যদি প্রতিনিধিত্ব করার দক্ষতা না থাকে তাহলে কর্মীরা আপনার কথা মান্য করবে না।

প্রতিযোগিতা

আধুনিক যুগে ব্যবসায় টিকে থাকতে হলে প্রতিযোগিতা করতে হয়। আপনি যখন দেখবেন আপনার প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান আপনার চেয়ে ভালো অবস্থায় আছে তখন আপনাকে নতুন নতুন পদ্ধতি বের করতে হবে টিকে থাকার জন্য। 

সৃজনশীলতা

এটি একটি বড় গুণ। যে কন সমস্যার মোকাবেলা করতে হলে ও গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে হলে আপনাকে সৃজনশীল হতে হবে।

দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা

যদি হটাৎ করে কোন সমস্যা চলে আসে তাহলে তা সমাধানের জন্য দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যত বেশি দেড়ি হবে সমস্যা তত বাড়বে।

নিয়ন্ত্রন ক্ষমতা

ব্যবসায় সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য সম্পদ, সময় ও জনশক্তি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা থাকতে হবে।

পরিকল্পনা দক্ষতা

পরিকল্পনার উপর ব্যবসায়ের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে। তাই কার্যকর পরিকল্পনা করার দক্ষতাও আপনার থাকতে হবে।

মূল্যায়ন করার ক্ষমতা

কোন কাজে ব্যবসায়ের ক্ষতি হবে এবং কোন কাজে লাভ হবে তা মূল্যায়ন করার ক্ষমতা থাকতে হবে।

অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতা

সকল কর্মী এক নয়। তাই বিভিন্ন উপায়ে তাদের অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতা থাকা একান্ত প্রয়োজন। কথায় আছে ‘নিজেকে সামলাতে হলে বুদ্ধিকে কাজে লাগাও, অন্যকে সামলাতে হলে হৃদয়কে কাজে লাগাও’

ব্যবস্থাপনা দক্ষতা

ব্যবসায়ের কার্যকলাপ সঠিক ব্যবস্থাপনার উপর নির্ভরশীল। আপনি যদি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি না জানেন তাহলে প্রতিষ্ঠানে হ-য-ব-র-ল অবস্থা হয়ে যাবে।

ঝুঁকি গ্রহন করার ক্ষমতা

ব্যবসায় মানেই ঝুঁকি। তাই ঝুঁকি গ্রহন করার মানসিকতাও আপনার থাকতে হবে।

 

একজন নেতাকে অনেক সময়েই এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয় যা সকলের পছন্দ নাও হতে পারেতাই বলে অন্যের কথা ভেবে কখন ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না। ব্যবসায়ের স্বার্থে সিদ্ধান্তটি যতই কঠোর হোক না কেন সঠিকটাই নিতে হবে। এক্ষেত্রে নেতাকে কোনো জটিল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে কিছু বিষয় এড়িয়ে চলতে হবেই।