ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ধরণ

সর্বশেষ হালনাগাদঃ ২৮ জানুয়ারি ২০১৮

মুনাফা অর্জনের জন্য বৈধ অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে ব্যবসায় বলে। সেবা বা পন্যের উপর ভিত্তি করে ব্যবসায়কে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

  1. কেনা- বেচা/ট্রেড ব্যবসায়ঃ যেমনঃ পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়।
  2. উৎপাদনমুখী ব্যবসায়ঃ যেমনঃ বেকারি ও কয়েল কারখানা।
  3. সেবা মূলক ব্যবসায়ঃ যেমনঃ মোবাইল ও গাড়ি সার্ভিসিং।

ব্যবসায় এর মালিকানা ও সংগঠনের উপর ভিত্তি করে ব্যবসায়কে চার ভাগে ভাগ করা যায়।

     i.        একমালিকানা ব্যবসায়

    ii.        অংশীদারি ব্যবসায়

   iii.        কোম্পানি ব্যবসায়

   iv.        সমবায় সমিতি

নিচে ব্যবসায় এর ধরনগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলঃ

i.        একমালিকানা ব্যবসায়

একমালিকানা ব্যবসায় বা এক মালিকানা ব্যবসায় হল একজন ব্যাক্তির মালিকানাধীন এবং মালিক কর্তৃক পরিচালিত ব্যবসা। একমালিকানাধীন ব্যবসা এবং মালিক দুটি আলাদা স্বত্বা নয় বরং ব্যবসার সকল দায় দেনা এবং সম্পদ সমস্তই মালিকের একার। ব্যবসার সমস্ত লাভ-ক্ষতি মালিক একাই ভোগ করেন । এক মালিকানাধীন ব্যবসার মালিক ইচ্ছে করলে তার নিজের বা ব্যবসায়িক নামে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।

সুবিধাসমূহঃ

  •   এই ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করা সহজ এবং শুরু করতে কম পুঁজির প্রয়োজন।
  •   এটি মালিককে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেক স্বাধীনতা প্রদান করে।
  •   ব্যবসায় সমস্ত দায় মালিকের বলে অর্থ লগ্নিকারীরা সহজেই অর্থ লগ্নি করতে আগ্রহী হয়।
  •   পরিচালনায় গোপনীয়তা বজায় থাকে।
  •   মুনাফার একক মালিকানা।
  •   দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
  •   সহজে বিলোপ সাধন।

অসুবিধাসমূহঃ

  •  একজন ব্যাক্তির পক্ষে ব্যবসার সকল পুঁজি সংগ্রহ করা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার।
  •  অসীম দায়ের ব্যবসা হওয়ার ফলে ব্যবসার সকল দায় মালিকের উপর বর্তায়।
  •  মালিকের মৃত্যু হলে বা ব্যবসা পরিচালনায় অপারগ হলে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়।
  •  যেহেতু মালিক নিজেই ব্যবসা পরিচালনা করেন তাই মালিকের অনভিজ্ঞতার কারণে ব্যবসার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  •  কোন অংশীদার না থাকায় ব্যবসায়ের সমস্ত ঝুঁকি মালিককে একাই বহন করতে হয়।
  •  বৃহদায়তন ব্যবসায়ের সুবিধার অভাব।
  •  ক্ষুদ্র আয়তনের সংঘটন বিধায় সামাজিক মর্যাদা কম।
  •  কম পুঁজির ক্ষুদ্রায়তন সংঘটন বিধায় কর্মীদের সুযোগ সুবিধা কম।
  •  সীমিত কার্যক্ষেত্র।
  •  স্বল্প পুঁজি বিধায় গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হয়না।

 

ii.        অংশীদারি ব্যবসায়

অংশীদারি ব্যবসায় হলো চুক্তির দ্বারা দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে বৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের নিমিত্তে যে ব্যবসায় গড়ে উঠে। ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন অনুসারে, সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ২জন ও সর্বোচ্চ ২০জন হবে এবং ব্যাংকিং অংশীদারি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ২জন থেকে সর্বোচ্চ ১০জন হবে। চুক্তিই অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি। চুক্তি ছাড়া কোনো অংশীদারি ব্যবসায় হতে পারে না।

সুবিধাসমুহঃ

  •  অধিক পুঁজির সংস্থান
  •  ঝুঁকি বণ্টন
  •  বৃহদায়তন ব্যবসায়ের সুবিধা ভোগ
  •  গবেষণা কাজে অর্থ ব্যয়

অসুবিধাসমুহঃ

  •  গোপনীয়তা বজায় থাকে না
  •  দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমস্যা

 

iii.        কোম্পানি ব্যবসায়

কোম্পানি হল আইনের দ্বারা প্রদত্ত স্বতন্ত্র ব্যক্তি স্বত্বার অধিকারী যা তার শেয়ারের মালিকদেরকে সীমিত দায় এর সুবিধা প্রদান করে। মালিক আইনগত সুবিধার জন্য তার ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে যৌথ মূলধনী কোম্পানিতে রুপান্তরিত করে।

কোম্পানির গঠনপ্রণালীঃ

কোম্পানির গঠনপ্রণালী মূলত কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়।

ধাপ ১: আইনানুগ সর্বনিম্ন সংখ্যক ব্যক্তি পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন

ধাপ ২: কোম্পানির প্রবর্তকগণ নিম্নোক্ত দুটি দলিল সংগ্রহ করেন বা প্রস্তুত করেন

ক. স্মারকলিপি বা সংঘস্মারক বা পরিমেলবন্ধ

স্মারকলিপি হলো কোম্পানির মূল দলিল। এর দ্বারাই কোম্পানির কার্যক্ষেত্র ও ক্ষমতার সীমা নির্ধারিত হয়।

খ. পরিমেল নিয়মাবলী বা সংঘবিধি

এই দলিলে অন্তর্ভুক্ত থাকে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপ পরিচালনা সংক্রান্ত যাবতীয় নিয়ম-কানুন। এতে পরিচালকদের কর্তব্য, অধিকার ও ক্ষমতা, ব্যবসায় পরিচালনার পদ্ধতি ও প্রকৃতি ইত্যাদিরও উল্লেখ থাকে।

ধাপ ৩: প্রবর্তকগণ এ পর্যায়ে দলিলপত্রাদি সংযোজনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশনের নির্ধারিত ফি প্রদানপূর্বক রেজিস্ট্রেশন অফিস থেকে রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণ করেন ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য দলিলাদি সংযোজন করেন।

ধাপ ৪: শুধুমাত্র পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে এপর্যায়ে কাজ আরম্ভ করার অনুমতি পত্র সংগ্রহ করতে হয়। এজন্য প্রবর্তকগণ আরও কিছু দলিল নিবন্ধকের নিকট জমা দেন এবং কোম্পানির বিবরণপত্র প্রস্তত করেন। নিবন্ধকের সন্তুষ্টিতে কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র সংগৃহীত হয়।

ধাপ ৫: কোম্পানি কাজ আরম্ভ করে।

 

কোম্পানির শ্রেণীবিভাগ ঃ

কোম্পানিকে নিম্নোক্ত শ্রেণীতে ভাগ করা যায়ঃ

    i.        প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিঃ

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যে সীমাবদ্ধ দায় কোম্পানিতে সদস্যের সংখ্যা ন্যূনতম ২ বা সর্বোচ্চ ৫০ জন রাখা হয় এবং সীমাবদ্ধ দায়ের ভিত্তিতে কোম্পানিকে প্রদত্ত আইনের আওতায় নিবন্ধিত করা হয়, তাকে ঘরোয়া মালিকানায় সীমাবদ্ধ কোম্পানি বা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি

  ii.        পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিঃ

পৃথিবীব্যাপী সবচেয়ে জনপ্রিয় কোম্পানি সংগঠন হলো পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। এসকল কোম্পানি বাজারে শেয়ার ছাড়ার মাধ্যমে মূলধন জোগাড় করে থাকে। বাংলাদেশে এধরণের কোম্পানির সদস্যসংখ্যা সর্বনিম্ন ৭ জন এবং সর্বোচ্চ শেয়ার দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে, শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য এবং কোম্পানি শেয়ার ও ঋণপত্র জনগণের উদ্দেশ্যে ক্রয়-বিক্রয়ের আহবান জানায়।

 iii.        অন্যান্য শ্রেণীবিভাগঃ

  •   সনদপ্রাপ্ত কোম্পানি
  •   সংবিধিবদ্ধ কোম্পানি
  •   সসীম দায় কোম্পানি
  •   হোল্ডিং কোম্পানি
  •   সাবসিডিয়ারি কোম্পানি
  •   অসীম দায় কোম্পানি
  •   অব্যবসায়ী কোম্পানি

 iv.        সমবায় সমিতি

সমমনা মানুষের স্বেচ্ছাসেবামূলক একটি স্বশাসিত সংগঠন যা নিজেদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের জন্য কাজ করে এবং এ লক্ষে অংশীদারিত্ব ভিত্তিতে গণতান্ত্রিকভাবে নিয়ন্ত্রিত ব্যবসা পরিচালনা করে।

সমবায় সংগঠনের মূলনীতি সমূহ হলঃ

  •    স্বতঃস্ফূর্ত ও অবাধ সদস্যপদ
  •    সদস্যের গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ
  •    সদস্যের আর্থিক অংশ গ্রহণ
  •    স্বায়ত্বশাসন ও স্বাধীনতা
  •    শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও তথ্য
  •    আন্তঃসমবায় সহযোগিতা
  •    সামাজিক অঙ্গীকার